পটুয়াখালীর বাউফলে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে প্রজননক্ষম ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলে পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইলিশের নিরাপদ প্রজনন, বংশবিস্তার এবং ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকারের নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার জন্য জেলেদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালেহ আহমেদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেন, “ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষা করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, বরং আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশকে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে হবে। সরকারের নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞার সময় কোনোভাবেই নদীতে জাল ফেলা যাবে না। সরকারি নির্দেশনা মেনে চলুন, ইলিশের প্রজনন সুরক্ষায় সহযোগিতা করুন।”

তিনি আরও বলেন, “আজ যদি আমরা নিষেধাজ্ঞার সময় একটি ইলিশ মাছও ধরি, তাহলে হয়তো সেই মাছের মাধ্যমে ভবিষ্যতে জন্ম নেওয়ার সুযোগ পাওয়া অসংখ্য ইলিশ থেকে আমরা বঞ্চিত হব। একটি মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ভবিষ্যতে বিপুলসংখ্যক ইলিশের জন্ম নিশ্চিত করতে পারে। তাই সাময়িক লাভের কথা চিন্তা না করে আমাদের দীর্ঘমেয়াদি সুফলের কথা ভাবতে হবে। আজ আমরা ইলিশ রক্ষা করলে আগামী দিনে জেলেরাই আরও বেশি মাছ আহরণের সুযোগ পাবেন। তাঁদের জীবিকা ও পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে ইলিশ সংরক্ষণের বিকল্প নেই।”

সংসদ সদস্য বলেন, সরকারের আইন ও নির্দেশনা মেনে চলা প্রত্যেক জেলের দায়িত্ব। নিষেধাজ্ঞার নির্ধারিত সময় নদীতে মাছ ধরা, জাল ফেলা, পরিবহন, মজুত ও বিক্রির মতো নিষিদ্ধ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি অন্য জেলেদেরও সচেতন করতে হবে, যাতে সবাই সম্মিলিতভাবে ইলিশের প্রজনন রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারেন।
তিনি জেলেদের উদ্দেশে বলেন, “সরকার আপনাদের পাশে রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময় আপনাদের কষ্টের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সহায়তা কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এই সহায়তা আপনাদের পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখবে। আপনারা সরকারি নির্দেশনা মেনে চলুন এবং ইলিশ সংরক্ষণে প্রশাসনকে সহযোগিতা করুন। মনে রাখতে হবে, ইলিশ রক্ষা মানে নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা গেলে নদীতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এতে জেলেদের কর্মসংস্থান, আয় এবং দেশের মৎস্যসম্পদ সমৃদ্ধ হবে। তাই ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় সম্পদ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালেহ আহমেদ বলেন, ইলিশের প্রজনন রক্ষায় সরকারের নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। জেলেদের প্রতি তিনি আইন মেনে চলার আহ্বান জানান এবং ইলিশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

আলোচনা সভায় ইলিশের প্রজনন সুরক্ষা, জেলেদের জীবিকা, সরকারি সহায়তা এবং নিষেধাজ্ঞার সময় আইন মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এ সময় জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রজনন মৌসুমে নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
ইলিশ বাংলাদেশের অর্থনীতি, ঐতিহ্য ও মৎস্যসম্পদের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ইলিশের উৎপাদন ও প্রজনন স্বাভাবিক রাখতে সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালন, মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং জেলেদের সহযোগিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইলিশ রক্ষা হোক, সমৃদ্ধ হোক দেশের মৎস্যসম্পদ, নিরাপদ হোক জেলেদের আগামীর জীবিকা—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন অনুষ্ঠানের বক্তারা।
