কেন্দ্রীয় ঘোষিত মাসব্যাপী দাওয়াতি গণসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি. পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ১নং কাছিপাড়া ইউনিয়ন উলামা বিভাগের উদ্যোগে ইমাম, খতিব ও ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাছিপাড়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি জনাব হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য প্রদান করেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। এ সময় স্থানীয় ইমাম, খতিব, আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ উপস্থিত ইমাম, খতিব ও ওলামা-মাশায়েখদের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের দ্বীনি কার্যক্রম, সামাজিক দায়িত্ব ও বিভিন্ন সমস্যা-সম্ভাবনার বিষয়ে আলোচনা করেন। সমাজে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠায় আলেম-ওলামাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন তিনি।
তিনি বলেন, ইকামতে দ্বীনের ক্ষেত্রে আলেম-ওলামাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের জ্ঞান, প্রজ্ঞা, নৈতিক শিক্ষা ও দিকনির্দেশনা একটি আদর্শ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। সমাজ থেকে অন্যায়, অনাচার, অবিচার ও নৈতিক অবক্ষয় দূর করতে ইমাম-আলেমদের যথাযথ ভূমিকা পালনের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ আরও আশ্বস্ত করেন, ইমাম, খতিব ও আলেম-ওলামারা যেন নির্বিঘ্নে তাঁদের দ্বীনি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন, সে বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তিনি নিজেকে আলেম-ওলামাদের খাদেম হিসেবে উল্লেখ করে তাঁদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাঁদের যেকোনো ন্যায়সংগত প্রয়োজনে সহযোগিতা ও পাশে থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বক্তব্যে তিনি সমাজের নেতৃত্বে ইমামদের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কথা তুলে ধরে বলেন, “আমাদের মসজিদের ইমামরাই হবেন সমাজের ইমাম।” তিনি এমন একটি আদর্শ বাউফল গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যেখানে ইমাম-আলেমদের নৈতিক নেতৃত্বে সমাজ থেকে অন্যায়, অনাচার ও অবিচার দূর হবে এবং প্রতিষ্ঠিত হবে শান্তি, সম্প্রীতি, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ।
সম্মেলনে ইমাম, খতিব ও ওলামা-মাশায়েখদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে তাঁদের দ্বীনি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সমাজে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ ধরনের সম্মেলন ইমাম, খতিব ও আলেম-ওলামাদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, ঐক্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দ্বীনি ও সামাজিক কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।
ইমাম-আলেমদের সম্মান, দ্বীনি কার্যক্রমের নির্বিঘ্ন পরিবেশ এবং তাঁদের সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে একটি নৈতিক, আদর্শিক, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক বাউফল গড়ার প্রত্যাশায় অনুষ্ঠিত হয় এ সম্মেলন।
