পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়নের মঠবাড়িয়া এবং কেশবপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

আজ ৬ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার, তিনি নদীভাঙনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো ঘুরে দেখেন এবং ভাঙনকবলিত ও নদীতীরবর্তী মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের নদীভাঙন, বসতভিটা ও কৃষিজমি হারানোর আশঙ্কা, যোগাযোগব্যবস্থার সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ দুর্ভোগের কথা সংসদ সদস্যের কাছে তুলে ধরেন।
পরে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ট্রলারযোগে তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন ভাঙনকবলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি নদীর তীরের বর্তমান পরিস্থিতি, ভাঙনের তীব্রতা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। একই সঙ্গে স্থানীয়দের কাছ থেকে ভাঙনের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলে বহু পরিবার তাদের বসতভিটা, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। নদীভাঙন রোধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।

নদীভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেন, “নদীভাঙন রোধে আমি পূর্বেও কাজ করেছি। তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙন থেকে মানুষের বসতভিটা, কৃষিজমি ও সম্পদ রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।” তিনি বলেন, নদীভাঙনের কারণে মানুষের জীবন-জীবিকা ও সম্পদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। তাই সমস্যাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ভাঙনকবলিত এলাকাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।

ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ আরও জানান, তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙন রোধে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নদীভাঙনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, নদীভাঙনের মতো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। মানুষের বসতভিটা, কৃষিজমি ও জীবন-জীবিকা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

পরিদর্শনকালে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ স্থানীয় মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং নদীভাঙনসহ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা—তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বসতভিটা, কৃষিজমি ও মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষিত হবে।
