পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেছেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ও জনতার সেবক ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। ৫ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার, স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।
দীর্ঘদিন ধরে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে এ এলাকার মানুষ নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে আসছিলেন। পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় বসতবাড়ি, কৃষিজমি, রাস্তাঘাট ও যোগাযোগব্যবস্থার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ত। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

মানুষের নিরাপত্তা ও কৃষি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ
উদ্বোধনকালে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি বলেন, “বাউফলের উন্নয়ন হবে মানুষের প্রয়োজনকে সামনে রেখে। কোথায় কী সমস্যা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও পানি প্রবেশের কারণে কোনো মানুষ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়ে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।”
তিনি বলেন, “আমাদের এই উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বাউফলের মানুষের জানমাল রক্ষা, কৃষিজমি সুরক্ষা, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”
এমপি আরও বলেন, “যেখানে যতটুকু প্রয়োজন, সেখানে ততটুকু উন্নয়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। স্থানীয় মানুষের দাবি ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে উন্নয়ন প্রকল্প ও বরাদ্দ আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

‘উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নয়, মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন’
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তা, ব্রিজ কিংবা ভবন নির্মাণ নয়। মানুষের বসতভিটা নিরাপদ রাখা, কৃষকের ফসল রক্ষা করা, জলাবদ্ধতা দূর করা, নদীভাঙন প্রতিরোধ করা এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করাও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”
তিনি বলেন, “বাউফল নদীবেষ্টিত একটি উপজেলা। এখানকার মানুষের অন্যতম বড় সমস্যা নদীভাঙন ও পানি ব্যবস্থাপনা। তাই এসব সমস্যা সমাধানে স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা প্রয়োজন। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “আজ যে বেড়িবাঁধ নির্মাণ শুরু হলো, এটি শুধু একটি বাঁধ নয়—এর সঙ্গে এলাকার মানুষের নিরাপত্তা, কৃষকের ফসল, বসতভিটা এবং ভবিষ্যৎ জীবন-জীবিকা জড়িত। তাই কাজের মান নিশ্চিত করে এটি টেকসইভাবে নির্মাণ করতে হবে।”
‘সরকারের বরাদ্দের সর্বোচ্চ সুফল বাউফলবাসী পাবেন’এমপি বলেন, “সরকারের কাছ থেকে বাউফলের জন্য যে বরাদ্দ পাওয়া যাবে, তার সর্বোচ্চ সুফল যেন সাধারণ মানুষ পায়, সেটিই আমাদের লক্ষ্য। উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।”
তিনি বলেন, “বাউফলের কোনো ইউনিয়ন, কোনো ওয়ার্ড কিংবা কোনো জনগোষ্ঠী উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত থাকবে না। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।”

স্থানীয় মানুষের কথা শুনলেন এমপি
বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ উদ্বোধনের পর ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি এলাকাবাসীর বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির কথা শোনেন এবং বেড়িবাঁধ নির্মাণের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন ও বাস্তব সমস্যাগুলো বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তবায়নে স্বস্তি এলাকাবাসীর
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা একটি কার্যকর বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে তাদের দুর্ভোগ বেড়ে যেত। বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় এখন তারা অনেকটাই আশাবাদী।
তাদের প্রত্যাশা, নির্মাণকাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হলে নদীর পানি থেকে এলাকার বসতবাড়ি ও কৃষিজমি সুরক্ষিত হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা আরও সহজ হবে।

স্থানীয়রা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাওয়ায় তারা সন্তুষ্ট। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও এলাকার অন্যান্য প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজ একইভাবে গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করা হবে।
উদ্বোধনকালে পানি উন্নয়ন বোর্ড, পটুয়াখালীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
বাউফলের মানুষের প্রত্যাশা—নওমালার এই বেড়িবাঁধ নির্মাণ শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে নয়, বরং মানুষের নিরাপত্তা, কৃষি সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বাস্তবায়িত হবে।
